I took the photo...

আমাদের ক্লাবের বইমেলা

আমাদের ক্লাবের বয়স বোধহয় ১৬ বছর হলো।
সবাই অবধারিত চিন্তায় ধরেই নেন ক্লাব অর্থই আনন্দ – কারণে অকারণে আনন্দ। একটি ক্লাবে রেস্তোরাঁ থাকবে, পানশালা থাকবে, ব্যায়ামাগার থাকবে, টেনিস কোর্ট থাকবে, স্কোয়াশ খেলা থাকবে – সবই থাকবে সদস্যদের আনন্দের জন্যে। ক্লাব সংস্কৃতি এদেশে নিয়ে এসেছিলেন বিদেশীরা – বিশেষ করে বিলেতিরা। তারা নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশ দখল করে গেঁড়ে বসে তা বজিয়ে রাখতে যে মানসিক ও শারীরিক ব্যাথা বোধ করতেন, তা শরীর ও মন থেকে বের করে দিতে তাদের ক্লাবের প্রয়োজন হতো। সেখানে অবশ্যই আনন্দ করেতেন আগ্রাসনবাদীরা।
আমাদের স্বাধীন দেশের অন্যান্য সব ক্লাব তাদেরই অনুসরণ করে।
তবে আমাদের এই ক্যাডেট কলেজ ক্লাব চলে ভিন্ন পথে।
আমাদের কাছে ক্লাব একটি বাতায়ন – দেশের জন্যে বাতায়ন। আমরা আমাদের দেশ উদযাপন করি। সমাজকে দেখাই কেমন করে বাঁচা উচিৎ, কেমন করে অন্যকে সাহায্য করতে হয়। আমরা আমাদের স্বাধীনতা, বিজয়, সংস্কৃতি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমাদের কাজ মনে করি।
আমরা গেল ১৬ বছর ধরে অমর একুশের শহীদদের স্মরনে প্রতি বছর শহীদ মিনারে গিয়েছি। তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা অর্পন করেছি। কিন্তু আমাদের কোন বইমেলা ছিল না। ক্যাডেট কলেজে যারা পড়েছেন তাদের অনেকেই লেখক। তারা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক – সবই লেখেন।
বছর চারেক আগে বন্ধু শাকুর মজিদ বলেছিল, ‘এই মুন্না; আমাদের ক্লাবে এতো কিছু ঘটে; কোন বইমেলা নেই; আয় আমরা ক্লাবে বইমেলা শুরু করি’।
তারপর ক্লাবের নির্বাহী পর্ষদকে বলা হলো। তাঁরাও খুব খুশী হলেন নতুন প্রস্তাব শুনে। আমরা কয়েকজন নেতৃত্ব দিলাম কোথায় কোন ক্যাডেট লেখক আছেন তাঁদের খুঁজে বের করতে। পেয়েও গেলাম। দেখলাম আমাদের ভেতরেই অনেক লেখক আছেন যাঁরা প্রতিনিয়তই লিখে যাচ্ছেন।
প্রথম বছর শুধু ক্লাবের সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গী বা সঙ্গীনীদের লেখা বই নিয়ে শুরু হলো। অনেক সাড়া পাওয়া গেল লেখকদের কাছ থেকে। যেন সবাই তাঁদের লেখা বই প্রদর্শন করতে মুখিয়ে ছিলেন।
তার পরের বছর থেকে ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়াশোনা করে বেরিয়েছেন, লেখালেখি করছেন কিন্তু আমাদের ক্লাবের সদস্য নন, তাঁদের লেখা বইও এই বইমেলার অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
তখন থেকেই চলছে আমাদের বইমেলা…
ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের বইমেলা অমর হোক; এ বইমেলা আমরা চালিয়ে যাবো; ক্যাডেট-লেখকদের এই খবর পৌঁছে দেয়ার জন্যেই আমার এই লেখা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *