আলব্যের কামু স্মরণে

কামু বামপন্থী হলেও সোভিয়েত-বিরোধী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে কেজিবির হাত ছিল বলে অনেকেই দাবি করেছেন। অনেকে হলফ করে বলেওছেন কিন্তু জনসম্মুখে আসতে রাজি হননি। ক্রেমলিন যদি কখনও তাদের গোপন নথি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে হয়তো জানা যাবে।
আজ তাঁর মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৬০ সালে এক গাড়ি-দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান।
কামুর নিজেকে শিক্ষিত করেছিলেন দস্তয়েফস্কি, কির্কেগার্ড, নিৎসে, গ্রীক দর্শন পড়ে। ‘দ্য আউটসাইডার’ বা ‘লে’থ্রঁজে[র]’ তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় বই হলেও, ‘দ্য প্লেইগ’, ‘দ্য ফল’, ‘দ্য রেবেল’, ‘দ্য মীথ অব সিসিফাস’ সমানভাবে পড়া হয়েছে। আমাদের দেশের পাঠকগণ ‘দ্য আউটসাইডার’, ‘দ্য প্লেইগ’ এবং ‘দ্য ফল’ বেশি পড়েছেন।
তাঁর অনেক রচনা, ছোটগল্প, নাটক এবং আরও উপন্যাস আছে যেগুলো না পড়লে তাঁকে ঠিক বোঝা যাবে না। তাঁর শেষ উপন্যাস, ‘দ্য ফার্স্ট ম্যান’ না পড়লে তাঁকে পড়া শেষ হয় না। ‘দ্য ফার্স্ট ম্যান’ আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। অসম্পুর্ণ। লিখে শেষ করতে পারেন নি। তার আগেই মরে গেছেন। মৃত্যুর অনেক বছর পর — মনে হয় ১৯৮৪ সালে — তাঁর মেয়ে ক্যাথরিন কামু এটি প্রকাশ করেন।
আলব্যের কামুকে নিয়ে গভীর সমালোচনা রয়েছে। তাঁর গল্পের আরব বা আলজেরিয় চরিত্রদের তিনি মেরে ফেলেছেন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি একজন রাজাকারের ভূমিকা নিয়েছিলেন, এবং আরও অনেক। কামু যে কোন হিংসা, বিদ্বেষ, রক্তারক্তি, খুন, মৃত্যুদন্ড, ঔপনিবেশ, দস্যুতা – এসবের বিরোধীতা করেছেন। তিনি বলতেন, কোন মানুষ এমন কোন পাপ করতে পারে না যে তাকে মেরে ফেলতে হবে।
তিনি আলজেরিয়া বা ফ্রান্সের উর্ধে ছিলেন। তাঁর চিন্তা ছিল মানবের পরিণতি বা দশা নিয়ে। মানব যে দূর্দশার কুপে পড়ে আছে বা নিজেকে ফেলে রেখেছে তা নিয়ে তিনি বিস্তর চিন্তা করেছেন, লিখেছেন।
তাঁকে অস্তিত্ত্ববাদী বলা হয় কিন্তু তিনি নিজে বলে গেছেন যে তিনি অস্তিত্ত্ববাদী ছিলেন না…তিনি কি ছিলেন তা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে…
আমি অবশ্য গৌতম বুদ্ধের চিন্তাধারার সাথে কামু এবং তাঁর শিক্ষক ও বন্ধুদের চিন্তাধারার মিল পাই। এই আলোচনা আরেকদিন করবো।
#আলব্যের_কামু #ইকরাম_কবীর

One Reply to “আলব্যের কামু স্মরণে”

Leave a Reply

Your email address will not be published.