Photo: Samakal newspaper

একটি চরিত্র তৈরী করবো

বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো। একটি চরিত্র তৈরী করবো। একটি অভিজ্ঞতা তৈরী করবো।

আমি বললাম, কল্পনা দিয়েইতো করা যায়।

সে বললে, কল্পনা সাজিয়ে কতবার অভিজ্ঞতা তৈরী করবে? একবার, দু’বার, তিন’বার? তারপর? কল্পনা ফুরিয়ে যাবে। তখন? নিজের কল্পনায় আর কুলোবে না। তখন? পরের কল্পনা ধার করবে?

আমি বললাম করাইতো যায়। ধরো তুমি আমায় তোমার একটি অভিজ্ঞতার কথা বললে, আমার মনে তা স্থান পেলো; এবং সেখানে কল্পনার রঙ ছড়িয়ে দিলাম; তৈরী হয়ে গেল নতুন অভিজ্ঞতা! হতে পারে না?

সে বলে, পারে, তবে কতক্ষণ?

আমি বলি, সর্বক্ষণ। চরিত্র তৈরী করতে গেলে যে সেই চরিত্রের জীবন যাপন করতে হবে তা কি সবসময় হয়? ধর আমি তলস্তয়ের সব লেখা পড়ে ফেলেছি; তার সৃষ্টি সব চরিত্রগুলোকেও জেনে নিয়েছি। রবীন্দ্রনাথ আদ্যোপান্ত পড়ে তার চরিত্রগুলোও আমার মাথায়। এমন করে আরো অনেক – মানিক বন্দোপাধ্যায়, জীবনানন্দ, শেক্সপিয়ার, টমাস হার্ডি। অভিজ্ঞতাতো মস্তিস্কে রেকর্ড হয়েই যাচ্ছে! আমার কাছেতো ওদের জীবন যাপিত! তাহলে?

বন্ধু বলে, নিজেকে যাপন করতে হবে, নিজের অভিজ্ঞতার চর্চা করতে হবে; নিজের অভিজ্ঞতায় রঙ চড়াতে হবে; পরের অভিজ্ঞতা নিয়ে কল্পনা করলে কিছু হয় না…

আমার মনে হয় না; কল্পনার কোন যাপিত অভিজ্ঞতা নেই; কল্পনায় রঙের কোন শেষ নেই; কল্পনায় সব চরিত্রই সৃষ্টি করা যায়…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *