Categories
Blog

মাসুদ রানা ও খালেদা বেগমকে সালাম

জনপদ, বিপর্যস্ত। করোনা কেমন যেন সবাইকে নিস্তেজ করে দিয়েছে। কেউ কারো কাছে যাচ্ছেন না, সামনা-সামনি বসছেন না। শারিরীক ও সামাজিক দূরত্ব এখন মানতেই হচ্ছে। যারা করোনাক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাদের অতি আপনজনও দাফন-কাফনে বা সৎকার্যে রাজি হচ্ছেন না বা সাহস পাচ্ছেন না। করোনাতংক ভর করেছে সবার মনে। ভয়। মৃত্যুর ভয়। সবাই ভীত। আমি নিজেও।
এরই মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মী মাসুদ রানার কথা জানতে পারলাম। তিনি ও তার স্ত্রী খালেদা বেগম – দু’জনে মিলে অজ্ঞাতনামা মরদেহ, অথবা কেউ যেসব মরদেহের সৎকার্য এবং দাফন কেউ করতে চাচ্ছেন না, সেসব দেহের দাফনকাজ ও সৎকার্য করছেন।
হিন্দু-মুসলমান মিলে এ’পর্যন্ত আঠারো জনের দাফন ও সৎকার্য তারা করেছেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলায় নাম না-জানা এক নারীর মরদেহ পড়েছিল। কেউ দেখেও দেখেনি। পুলিশের এসআই সাজেদ ছিলেন সেখানে। সাজেদ খবর পেলেন মাসুদ রানার ফোন পেয়ে।
আমার সাথে যখন তার কথা হয়, তখন তিনি একজন গ্রাহকের এ্যাকাউন্ট খুলে দিতে সাহায্য করছেন। বললাম রাতে কথা হবে।
রাতে তার সম্পর্কে জানলাম।
মাসুদ রানা কাজ করেন ব্র্যাক ব্যাংকে। স্ত্রী ডেন্টিষ্ট। এই দম্পতি তাদের এলাকায় করোনাতংকিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কখনও অর্থ, কখনও খাবার, কখনও সচেতনতা নিয়ে প্রচার।
সীতাকুন্ডে একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য তারা। কোরনাভাইরাসের সময় উপজেলা পর্যায়ে করোনায় মৃত রোগী দাফনে তারাই সবার আগে এগিয়ে এসেছিলেন। শুধু দাফন নয়, মাসুদ রানা ও তার স্ত্রী তাদের বাৎসরিক ছুটির অর্থ, ঈদের বোনাস, টিএডিএ, প্রণোদনা বোনাস এবং বেতনের অর্থ দিয়েও সবার পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন সাধারণ ছুটির এই পুরো সময়টি। মানসিক ভারসাম্যহীনদের খাবার দিয়েছেন। রোজা শুরুর আগের দিন দুই’শ অসহায় মানুষকে মুরগী এবং কাঁচা সবজি দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
নিজেদের নাম প্রচারে তারা এ কাজ করছেন না। তাদের মনে হয়েছে, এ কাজ তাদের খোদার আরো কাছে নিয়ে যাবে। মনে হয়েছে জীবনে অনেক অর্থ রোজগার করতে পারবেন কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই সুযোগ আর আসবে না।
স্ত্রী খালেদা ও মা রওশন আরা বেগমকে নিয়ে তার ছোট সংসার।
এই মাসুদ রানারাই আমাদের সমাজ বাঁচিয়ে রাখেন; আশা জাগিয়ে রাখেন।
মাসুদ রানাকে সালাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *