মি. সিনহা ও ভালবাসার গাছ

বি-ফর্মে ‘শ্রীকান্ত’ পড়াচ্ছেন মি. রফিক নওশাদ। এ-ফর্মে মি. সিনহা। বি-ফর্মিস্ট’রা মনে মনে চাই মি. সিনহাই যেন এ গল্প পড়ান। ‘শ্রীকান্ত’ ভালবাসায় ভরপুর এবং ভালবাসার সাহিত্য তিনি ছাড়া আর কেউ সুন্দর করে বোঝাতে পারেন না। মি. নওশাদের মত বড় কবিও ভালবাসা বোঝাতে পারেন না। মি. নওশাদকে প্রশ্ন করতেও ভয় লাগে।

কি এক কারণে মি. নওশাদ বি-ফর্মে আসেননি। বোধহয় শরীর ভাল নেই বা তিনি ছুটিতে আছেন।

এলেন মি. সিনহা।

আমাদের পায় কে?!

এই উপন্যাস নিয়ে অনেক প্রশ্ন আমাদের মনে। পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে শ্রীকান্ত ইন্দ্রিনাথের প্রেমে পড়েছে। সে বার-বার তাইই ভাবছে। সে ইন্দ্রকে ভালবাসে। শ্রীকান্ত বাসুক ঠিক আছে, কিন্তু সমস্যা বি-ফর্মের পোলাপানের মনে ঠিক যাচ্ছে না। একজন ছেলে আরেকজন ছেলেকে ভালবাসছে – এ কিরম ভালবাসা?

আমাদের কাজী আরিফের নেতৃত্বে আমরা মি. সিনহাকে প্রশ্ন করিঃ “একজন ছেলে আরেকজন ছেলেকে কেমন করে ভালবাসতে পারে?”

মি. সিনহা আমাদের মাঝে-মাঝে তুই করে ডাকতেন।

“কি আশ্চর্য! তোরা ভালবাসা বুঝিস না! আয় তোদের ভালবাসা বোঝাই”।

সিনহা স্যার চক দিয়ে ইয়াবড় ব্ল্যাকবোর্ডে একটা বটগাছ আঁকলেন। অনেক শাখা-প্রশাখা। পাতাও আঁকার চেষ্টা করলেন। পাতাগুলোর চেহারা ভাল হল না।

প্রতিটি শাখা-উপশাখা-পাতা-ফলের ওপরে অনেকের নাম লিখে দিলেন। মা, বাবা, ভাই, বোন, বন্ধু, বান্ধবী, চাচা, মামা, চাচী, মামী, সন্তান – আরও অনেক…

বোঝালেন – ভালবাসা একটা বটগাছ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *