Photo: Daily Ittefaq

লাল ওড়না

মজমপুরের ছেলেদের হাতে মার খেয়ে দু’দিন হাসপাতালে কাটিয়ে তৈমুর একটু বেশিই চুপচাপ হয়ে গেছে। ও-পাড়ার ছেলেরা যখন তাকে বেদম মারছিল, তার নিজের বন্ধুদের কেউই তাকে বাঁচাতে আসেনি। কেউই তাকে না মারতে অনুরোধ করেনি। পাঁচ জন বন্ধু সাথেই ছিল। চাইলেই ওদের থামিয়ে দিতে পারত। একইসাথে বসে তারা আড্ডা মারছিল। কোথা থেকে ও-পাড়ার ছেলেরা এসে কোনো কথা না বলে তাকে মারতে শুরু করল, মুখে যা আসে তাই বলে গালাগালি করল, তাকে রক্তাক্ত করল। বাধা দেয়া তো দূরের কথা, কেউ কিছু বললও না! নিজের মানুষ এত বড় বিশ্বাসঘাতক হতে পারে, সে ভাবতে পারছে না। তাদের ওপর কতই না ভরসা করে সে!
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতেই বিশ্রাম নিয়েছে বেশ ক’দিন। হাসপাতালে ও বাড়িতে পাড়ার বন্ধুরা সবাই তাকে দেখতে গিয়েছে প্রতিদিন। তৈমুর তাদের সাথে খুব একটা গল্প-গুজব করেনি। একটু বেশিই অসুস্থতার ভান করেছে। সবাই তার কাছে কিছুক্ষণ থেকে চলে গেছে। শরীর পুরোপুরি ভালো হলে সে একদিন আবার রেইনউইকের মোড়ে বকুলের হোটেলের আড্ডায় আসে। বন্ধুরা সবাই তৈমুরকে কাছে না পেয়ে একটু অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তবে ওকে ছাড়া তাদের ভালো লাগেনি। প্রথম দু’দিন তার প্রচণ্ড অনুপস্থিতি বোধ করেছে। হোটেলে বেশিক্ষণ বসেনি। রেইনউইকের ক্যাম্পাসে ঢুকে গাছ-গাছালি দেখে, বাঁধের ওপর বসে গড়াই নদীর প্রকাণ্ড ঢেউ বোল্ডারগুলোর ওপর আছড়ে পড়ার শব্দ শুনেছে, নদীর ওপারে হরিপুর গ্রামের দিকে তাকিয়ে সিগারেট ফুঁকেছে। তারপর আবার সেখান থেকে ফিরে বকুলের হোটেলে এসে সবাই মিলে চাঁদা তুলে চা খেয়ে নিজ-নিজ বাড়ি চলে গেছে। পরদিন তাদের আবার দেখা হবে।

এই ছেলেগুলোর তেমন কোনো কাজ নেই। ম্যাট্রিক পাস করে কলেজে যাওয়ার বয়স, কিন্তু কেউ সেখানে যায় না। কেমন করে যেন তারা জানে পরীক্ষা তারা দেবে এবং কোনো না কোনো পন্থায় উত্তীর্ণও হয়ে যাবে। শুধু এরা নয়, এ শহরের প্রায় সব ছেলেই এমন। তৈমুররা তুলনামূলকভাবে শান্ত প্রকৃতির। সে কারণেই তারা পাড়ার অন্যান্য বড় ভাইদের থেকে দূরে বসে আড্ডা দেয়। রেইনউইক জগেশ্বর মিলের প্রধান ফটকের সামনে বকুলের হোটেলে আর কেউ আসে না। অন্যান্য সবাই বসে ছয়-রাস্তার মোড়ে। বড়দের দল মোড়ের দক্ষিণে, মধ্যম দল আড্ডা দেয় উত্তর-পূর্বে একটি গলির ভেতর। এ শহরের আরো বড়দের দল আড্ডা দেয় কোর্টপাড়ায় থানার সামনে। এ

শহরের ছেলেদের দু’টি স্বপ্ন—গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পে ঠিকাদারি করা, না হয় সমাজতন্ত্র কায়েম করা, শ্রেণিশত্রুদের শায়েস্তা করা।

তৈমুদের আড্ডা দেয়া ছাড়া কোনো স্বপ্ন নেই। এদের অনেকে মাঝে-মাঝে ভাবে আমেরিকায় পড়তে যাবে, দু-একজন আবার প্যালেস্টাইনে যুদ্ধ করতে যেতে চায়। সেখানে গিয়ে যুদ্ধ করলে নাকি বিদেশি মুসলমানদের বেতন দেয়া হয়। এ দেশে কিছু হবে না, তাই তারা বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। অপেক্ষা করে। মাঝে-মাঝে সরকারি কলেজে মুখ দেখাতে যায়। এছাড়া আর কোনো কাজ নেই। বকুলের হোটেলে চা-সিগারেট-সিঙ্গাড়া, দুপুরে বাড়ি এসে খেয়েদেয়ে আবার বিকেলে রেইনউইকের মোড়, তারপর রাত করে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়া।

হোটেলে বসতেও অর্থ প্রয়োজন হয়। মায়ের কাছ থেকে চেয়ে-চিনতে যা নিয়ে আসে তাতে প্রতিদিনের খরচ কুলোয় না। এদের বাবারা কয়েকজন ট্রাক-লরির ব্যবসা করেন। ডাইভার-হেল্পারদের কাছ থেকেও টাকা চেয়ে আনে মাঝে-মাঝে। বকুলের হোটেলে বসলে রেইনউইক মোড় থেকে মজমপুরের দিকে যে রাস্তাটি গেছে সেটি খুব পরিষ্কার দেখা যায়। রাস্তা দিয়ে মানুষগুলোকে আরো ভালো করে দেখা যায়। এ রাস্তা দিয়েই স্কুল ও কলেজ-পড়ুয়া অনেক তরুণ-তরুণী যাওয়া-আসা করে। স্কুল বা কলেজের ক্লাস শেষ হলে বিকেলে তারা প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তে যায়।

এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন বীভা আসে ও যায়। সে সরকারি স্কুলে পড়ে। মজমপুর থেকে রিকশা চেপে রেইনউইকের মোড় হয়ে পাঁচ-রাস্তার মোড়ে। এ পথে আসা-যাওয়া করা তরুণীদের মধ্যে বীভাই সবচেয়ে সুন্দরী। তবে চলন-বলন আর পাঁচ-দশ জন তরুণীর মতোই সাধারণ। রূপের কোনো দম্ভ চোখে পড়ে না। এ পথ দিয়ে যায় আর ফেরত আসে। কোনো পানে চায় না। কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করে না। তৈমুরের দলের ছেলেরা মেয়েদের দেখেই দিন পার করে। তবে কাউকে কিছু বলার সাহস করে না। শহরটির চরিত্রটিই এমন। মেয়েরা নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ায়, নিজের কাজে যায়, তাদের স্বাধীনতা কেউ ভঙ্গ করে না। আজ পর্যন্ত কেউ করেওনি।

তবে বীভার সম্পর্কে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। তার দিকে না তাকিয়ে থাকা যায় না। ছয়-রাস্তার মোড়ের বড় ভাইরাও তার কথা জানেন। তবে তারা তাদের ঠিকাদারি নিয়েই বেশি ব্যস্ত। তৈমুরদের দলের ছেলেরা মনে মনে বীভাকে পছন্দ করলেও মুখে কিছু বলে না। বলে শুধু তৈমুর। সে যেই রিকশা চড়ে আসে, তা সে অনেক দূর থেকেই চিনতে পারে। মজমপুর থেকে আসতে দেখলেই সে হোটেল থেকে বেরিয়ে রাস্তার কিনারে গিয়ে দাঁড়ায়—বীভাকে এক নজর দেখার জন্য। বীভা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়ে দেড় ঘন্টা। সময়টা পার হলেই তৈমুর উঠে যায় রাস্তায়। সে তাকে

এতই পছন্দ করে যে বেশিরভাগ সময় কিছু বলতে পারে না। মাঝে-মধ্যে অভদ্রের মতো ‘আই লাভ

ইউ’ বলে। শুনে বীভার বলার কিছু থাকে না; তৈমুরের কথা সে এক বখাটে ছেলের একটি মেয়েকে উত্যক্ত করার অপচেষ্টা বলেই ধরে নেয়। এই বীভাকে উত্যক্ত করেই তৈমুর ও-পাড়ার ছেলেদের হাতে পিটুনিটা খায়। তবে সেদিন তৈমুরের ভাব নিবেদন একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল।

ওরা সবাই বরাবরের মতোই বসে ছিল বকুলের হোটেলে। কারো সামনে চায়ের কাপ, ভাগাভাগি করে কয়েকজন পান করছে। তবে সবারই আঙুলের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগারেট। স্টার, বগলা, কে-টু—যা পায় এরা তাই ফোঁকে। ঈদের দিন শুধু গোল্ড-ফ্লেইক বা গোল্ড-লিফ কেনার সুযোগ হয় এদের।

রাজু এবং জামশেদ একটু অন্যরকম। রাজু সেই ক্লাস নাইন থেকেই বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল করে; সারা রাত মার্ক্স-লেনিনের বই পড়ে; প্রায়ই মার্ক্সবাদ শেখার আসরে যায়; রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পোস্টার লাগায়; আর এখানে এসে সমাজ পরিবর্তনের জ্বালাময়ী ফুলঝুরি ছোটায়। জামশেদের দাদাবাড়ি পাশের জেলা-শহরে। এটি তার নানার কুলের শহর। ছুটি পেলে চলে আসে, আর ফেরত যেতে চায় না; প্রায়ই তার মা এসে তাকে জোর করে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। জামশেদ তৈমুরের ফুফাতো ভাই; ছোটবেলা থেকেই তাদের বন্ধুত্ব; তৈমুর পরিচয় করিয়ে দেয়াতেই এ পাড়ার আর সবাই তার বন্ধু হয়েছে; সে এদেরই একজন হয়েছে।

সেদিন বীভার পরনে ছিল তামাটে হলুদ রঙের শেলোয়ার-কামিজের সাথে লাল একটি ওড়না। ওড়নাটি আলতো করে মাথার ওপর তোলা ছিল। মাথায় ওড়না সে কখনো দেয় না; সেদিন দিয়েছিল। ওড়নার অংশ মাথায় তুলে দেয়ায় বীভার বুকের একপাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। ওড়নার কিছু অংশ রিকশার ছাউনির পাশ গলে বাইরেও একটু উঁকি দিচ্ছিল। তৈমুর উঠে গিয়েছিল তাকে দেখতে। চেহারা দেখার চাইতে বীভার শরীরই সেদিন তার বেশি চোখে পড়েছিল। তার মানস-চক্ষু ঝলসে গিয়েছিল বোধহয়। কি মনে করে ‘আই-লাভ-ইউ’ বলতে বলতে দৌড়ে গিয়ে সে বীভার ওড়না টেনে ধরে। রিকশার ছাউনিতে বীভার মাথা ঠুকে যায়, সে চিত্কার করে, তৈমুর তার অপরাধ বুঝে দৌড়ে অন্য দিকে পালিয়ে যায়।

হোটেলে বসা ছেলেগুলো হতবাক। এমন কাণ্ড তারা কিংবা তাদের কোনো বন্ধু করবে কখনো ভাবনায় আসেনি। কয়েক হাজার ঘন্টা তারা এ হোটেলে আড্ডা দিয়েছে, রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করা তরুণীদের পানে চেয়ে স্বপ্ন দেখেছে, তবে এমনটি কেউ করবে ভাবেনি। তৈমুরের কাজে সবার মন খারাপ হয়েছিল। রাগও হয়েছিল কারো কারো। বীভা মানসিকভাবে কিছুটা সামলে নিয়ে রিকশা ঘুরিয়ে ফিরে চলে যায় মজমপুরের দিকে।

এরা সবাই কিছুক্ষণ পর আবার হাসি-ঠাট্টায় মশগুল হয়। তৈমুরও কোনো এক গলির ফাঁক থেকে ফিরে এসে বসে। সবাই তাকে গালমন্দ করে। তার বিপদ আসে তার আধা ঘন্টা পর। তখন তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশে ঘাসের ওপর বসে গল্প করছিল। চার-পাঁচটি রিকশা রাস্তা দিয়ে আসছিল তারা সে দিকে তাকায়নি। কাছে আসতেই রিকশায় বসা আট-নয়জন ছেলে হুঙ্কার দিতে দিতে তাদের দিকে দৌড়ে এসে তৈমুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তৈমুর তাদের হকি-স্টিকের আঘাত কয়েকটি ঠেকিয়ে আর পারে না; ব্যথায় রাস্তায় শুয়ে পড়ে। পথচারীরা ততক্ষণে সেখান থেকে সটকে পড়েছে। তৈমুর যখন আর নিতে পারে না, রাজু মজমপুরের ছেলেদের থামতে অনুরোধ করে। হকি-স্টিকের আঘাত চাট্টিখানি কথা নয়। তারা যখন বোঝে তৈমুর যথেষ্ঠ নিস্তেজ হয়েছে, তখন তারা বিরত হয়, তার বংশের সবাইকে গালি দিতে দিতে আবার তাদের পাড়ার দিকে চলে যায়।

বন্ধুরা কাছে আসে তাকে সাহায্য করার জন্য। তৈমুর প্রথমেই জামশেদের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তুই আমাক বাঁচাতি আলি না ক্যান? তুই না আমার ভাই? তুই আলি ওরা পালা য্যাতো; তুই একখান নিমোখারাম, শালা। নে, আমাক ধর এখন; হাসপাতালে নে।’

‘তুই যা করলি তা তো মাফ করা যায় না; তোর দোষেই তুই মাইর খালি। মেয়েদের ওড়না ধ্যরি টান দেয় কি ভদ্দরলোক? তোর শাস্তি দরকার সিলো; হইসে। চল, তোক লি’ যাই এখন। আর শোন, আমি কিন্তু কষ্ট পাইনি; আমার ভাইয়ের পাপের শাস্তি হইসে। তুই পাপমুক্ত এখন।’ জামশেদ উঁচু গলায় বলে ওঠে। তৈমুর চুপ করে যায়।

রাজু বলে, ‘জামু, এখন কতা কম ক; আগে ওক লি চল হাসপাতালে।’

ব্যস; সবার কথা এতটুকুই। সবাই মিলে রিকশায় করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেল। প্রায় এক ঘন্টা প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে শরীরের বেশ কয়েক স্থানে ব্যান্ডেজ নিয়ে তাকে সবাই মিলে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে তারপর আবারও গিয়ে বসে রেইনউইকের মোড়ে। বড় ভাইরা সাধারণত এই মোড়ে আসেন না। কিন্তু অন্য পাড়ার ছেলেরা তাদের পাড়ার ছেলেকে মেরেছে জেনে তারা এলেন। শারীরিক ভাষা মারমুখী; অনেক অলস সময় কাটিয়ে এবার একটি কারণ পেয়েছেন উদ্ধত হওয়ার। তৈমুর কেন পিটুনি খেয়েছে তা বুঝিয়ে বলার পর বড় ভাইরা সবাই নিস্তেজ হয়ে পড়লেন। ও-পাড়ার ছেলেদের উলটো হামলা করার কোনো উছিলা আর রইলো না; সবাই হতাশ হলেন; মারামারি করার

একটি মোক্ষম কারণ হাতছাড়া হয়ে গেল।

তৈমুর সুস্থ হয়ে আড্ডায় ফিরে এসে সেই একই কথা বলে চলেছে। তার আপন বন্ধুরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি, সবাই নেমক-হারাম, তাদের সাথে আর মেলামেশা করবে কি-না তা সে সত্যি-সত্যি ভেবে দেখবে। বন্ধুরাও অনড়। তারাও মনে করে সে যে অ-কাজটি করেছিল তার উচিত শিক্ষা সে পেয়েছে। তার ফুফুর ছেলে জামশেদ এ ব্যপারে বেশি শোচ্চার। জামশেদ আর তৈমুরের মাঝে অনেক তর্ক-বিতর্ক হলো, রাগারাগি হলো। তারপর সপ্তাহ ঘুরতেই এরা আবার নিজেদের মতো করে আগের সেই গল্প-কথায় ফিরে গেল। সেই বকুলের হোটেল, সেই আড্ডা, সেই

চা-সিগারেট, সেই রাস্তা। সবাই যাওয়া-আসা করে, শুধু বীভা উধাও। সে এ পথ দিয়ে আর যায় না; যেখানে পড়তে যেত সেখানে আর যায় কি-না, তাও এই ছেলেরা জানে না। ইচ্ছে থাকলেও জানার সাহস এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। তৈমুরের খুব জানতে ইচ্ছে করে; সে মার খেয়ে আহত হওয়ার পর বীভা এখন কী ভাবছে? কেমন আছে সে? কোথায় পড়তে যায়? কোন স্যারের কাছে? কাউকেই মনে আসা প্রশ্নগুলোর কথা বলে না। দিনগুলো এভাবেই যাচ্ছিল।

একদিন রেইনউইকের মোড়ের ছেলেগুলো প্রতিদিনের মতোই বসে আড্ডা দিচ্ছিল। সেদিন একটি হুড তোলা রিকশা এসে তাদের আড্ডাখানার সামনে দাঁড়ায়। রিকশা থেকে নামে বীভা। ছেলেগুলোর সবার চোখ ছানাবড়া! বীভা?! এখানে?! রিকশাওয়ালাকে দাঁড়াতে বলে সে হোটেল পানে হেঁটে আসে। ভেতরে আসে। অস্বস্তিতে হন্তদন্ত হয় তারা। বকুল তার চায়ের উনুন ছেড়ে নির্বাক তাকিয়ে থাকে।

তৈমুর সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। দাঁড়িয়ে যায়। বোধ হয় ভয়েই।

বীভা ধীরপায়ে এসে তারই সামনে দাঁড়ায়। ঘাড়ে একটি ব্যাগ। তৈমুরে দিকে তাকিয়ে। স্থির নয়নে।

তৈমুর তাকায় না। বীভা তৈমুরের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তৈমুর ভাই, আপনি আমার যেই ওড়না ধরে টান দিসিলেন, এইযে সিটা; আপনার জন্নি আনিসি; রাখেন।’

তার ব্যাগ থেকে ভাঁজ করা একটি লাল রঙের ওড়না তৈমুরের সামনে টেবিলে রেখে সে কিছুক্ষণ

তার দিকে তাকায়। তৈমুর ভিড়মি খায়। চোখ কপালে তুলে বীভার দিকে তাকিয়ে থাকে। বীভা ধীরে

ধীরে উলটো ঘুরে বেরিয়ে যায় তার রিকশার দিকে। তার চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে তৈমুর ধপ করে

হোটেলের বেঞ্চিতে বসে পড়ে।

আর সবাই তাকিয়েই রয়…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *